আসসালামু
আলাইকুম :) আমি শহীদ, প্রভাতের আহ্বানের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই স্বাগতম।
ইনশা আল্লাহ ব্লগিংয়ে আগ্রহী ভাই-বোনদের
জন্য আমরা শুরু করতে যাচ্ছি সম্পূর্ণ নতুন একটি টিউটোরিয়াল সিরিজ। এই
টিউটোরিয়াল সিরিজটি জুড়ে আমরা জানার চেষ্টা করবো গুগল অধিকৃত উন্মুক্ত
ব্লগিং প্লাটফর্ম ‘ব্লগার ডট কম’ সম্পর্কে নানা তথ্য। এক্ষেত্রে আমরা
একেবারে শূণ্য থেকে শুরু করার চেষ্টা করবো, যাতে ইন্টারনেট জগতে একেবারে
নতুন মানুষটিও সহজেই পরিচিত হতে পারে ব্লগিংয়ের সাথে। প্রকৃতপক্ষে আমার এই
সিরিজটি শুরু করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজে ব্লগার.কম সম্পর্কে আরো
ভালোভাবে জানা। আর এতে আমাদের পাঠকই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আশা করি সকলের
সর্বাত্মক সহযোগীতা পাবো ইনশা আল্লাহ। তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে মূল কাজ
শুরু করি। যেহেতু এটি সিরিজের প্রথম লেখা তাই আজ আমরা কেবল ব্লগার কী এ
সম্পর্কেই জানবো।
বর্তমান
সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় উন্মুক্ত ব্লগ প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো
ব্লগার ডট কম। এটি যেমন ব্যবহার করা সহজ ঠিক তেমনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যও।
তাছাড়া এর রয়েছে দারুণ সব কাস্টমাইজেশান ফিচার্স। যার ফলে একজন ব্লগার
মনের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারেন তার ব্লগ সাইটটিকে।
ব্লগার
প্রথম যাত্রা শুরু করে ১৯৯৯ সালের ২৩ আগস্ট। এটি ডেভেলপ করেছিলেন Pyra
Labs নামে একটি প্রতিষ্ঠান। পরে ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুগল এর মালিকানা
নিয়ে নেয়। ২০০৪ সালের মে মাসে ব্লগার তাদের ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে
যাতে যুক্ত করা হয় বিভিন্ন ধরনের নতুন ফিচার্স, যেমনঃ ওয়েব
স্ট্যান্ডার্ড্স-কমপ্লায়েন্ট টেমপ্লেট্স, পোস্ট নিয়ে একক সংগ্রহমূলক
পাতা, মন্তব্য ও ই-মেইলের মাধ্যমে পোস্ট করার সুযোগ। ২০০৬ সালের আগস্টে
ব্লগার তাদের নবীনতম সংস্করনের বেটা ভার্সন চালু করে। ২০০৭ সালের মে মাসে
ব্লগার তাদের হোস্টিং সম্পূর্ণরূপে গুগল-পরিচালিত সার্ভারে সরিয়ে নেয়। ২০১০
সালের মে মাসের আগ পর্যন্ত ব্লগার তার ব্যবহারকারীদের যে কোনো ওয়েব
হোস্টিং সাইটে ব্লগ হোস্ট করার সুযোগ দিলেও বর্তমানে তা বন্ধ করে দেয়া
হয়েছে। তবে ব্যবহারকারীরা যে কোনো সময় DNS এর মাধ্যমে তাদের ব্লগে নিজের
পছন্দ মতো URL বা ওয়েব ঠিকানা যোগ করতে পারবেন। শুরু দিকে কেবল ইংরেজি
ভাষায় ব্যবহার করা গেলেও বর্তমানে ব্লগারে রয়েছে বাংলাসহ ৫০ টিরও অধিক
ভাষা। এবার চলুন জেনে নেই ব্লগারের সেই বিশেষ সুযোগ-সুবিধাগুলো সম্পর্কে যা
ব্লগারকে করেছে অন্যান্য ব্লগিং প্লাটফর্মগুলো থেকে আলাদা ও জনপ্রিয়।
✔ ব্লগারে অ্যাকাউন্ট খোলা পুরোপুরি উন্মুক্ত (ফ্রী) ও ঝামেলাবিহীন।
✔ একটি ব্লগার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ ১০০ টি ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারবেন।
✔ একটি ব্লগার ব্লগে একজন ব্যবহারকারী যতো খুশি ততো পোস্ট করতে পারবেন অর্থাৎ মোট পোস্ট সংখ্যা অনির্দিষ।
✔ একটি ব্লগ পোস্টের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই অর্থাৎ একজন যতো বড় পোস্ট ইচ্ছে লিখতে পারবেন।
✔ একজন ব্লগার সর্বোচ্চ ১ গিগাবাইট পরিমাণ ছবি আপলোড করতে পারবেন তার ব্লগে। তবে গুগল প্লাসে আপগ্রেড করার মাধ্যমে এর পরিমাণ ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত হতে পারে (Gmail ও গুগল ড্রাইভের সাথে মিলিতভাবে)।
✔ একটি ব্লগার সাইটে সর্বোচ্চ ১০০ জন সদস্য থাকতে পারবে।
✔ ব্লগারের
মূল কাঠামো অপরিবর্তীত রেখে যে কোনো ব্যবহারকারী একে নিজের মতো সাজাতে
পারবেন অর্থাৎ তিনি তার নিজের মতো HTML, CSS ও JavaScript ব্যবহার করতে
পারবেন।
✔ DNS সার্ভিসের মাধ্যমে একজন ব্লগার যে কোনো সময় তার ব্লগে নিজের মতো Domain যোগ করতে পারবেন (যেমনঃ www.xyz.com)
এছাড়াও
ব্লগারে রয়েছে আরো বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা যা আমরা পরবর্তীতে লেখার
প্রসঙ্গে জানার চেষ্টা করবো। আজ এ পর্যন্তই। ইনশা আল্লাহ পরবর্তী লেখায়
আমরা জানার চেষ্টা করবো কীভাবে ব্লগারে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিজের
ব্যক্তিগত ব্লগ চালু করা যায়। জাযাক আল্লাহ খাইরান :)
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া ও গুগলের সাপোর্ট পেইজ
0 disqus-facebook:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন